বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীর বিরুদ্ধে। সম্পর্ক না করায় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ওই ছাত্রী।
ঘটনার চার মাস পর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও মারধরের অভিযোগ এনে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রী আবিরা ছরোয়ার শেফার মা মৌসুমী আক্তার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
শেফা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং নগরীর কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আগৈলঝাড়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার।
আসামিরা হচ্ছে : নগরীর বগুরা রোডের বাসিন্দা ফাতেমা খাতুন চম্পা ও তার মেয়ে সাবিকুন নাহার শশি এবং নগরীর মতাসার এলাকার তাওসিফ মাহমুদ স্বাধীন ও আসাদ ইসলাম। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী ছাত্রীর মা মৌসুমী বলেন, কয়েক মাস আগে শশিকে ডাকতে তার বাসায় যায় শেফা। এ সময় শশি ও আসাদকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পায় শেফা। শশি ও আসাদ বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশংকায় শেফাকে ফাঁদে ফেলতে চক্রান্ত করে। এতে শশির মা ফাতেমা খাতুনও সহায়তা করেন।
চক্রান্ত অনুযায়ী, আসাদ তার বন্ধু স্বাধীনকে শেফার সাথে পরিচয় করায়। এর কিছুদিন পর স্বাধীন প্রেমের প্রস্তাব দেয় শেফাকে। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করে স্বাধীন।
সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায় শেফা। পরীক্ষা শেষে শেফাকে ডেকে স্কুলের সামনে নিয়ে যায় শশি। সেখানে শশির মা ফাতেমা খাতুন, আসাদ ও স্বাধীনকে দেখে শেফা চলে যেতে চাইলে পথরোধ করে তারা। এক পর্যায়ে শেফাকে মারধর করে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে শশি বলেন, শেফা আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বহু মানুষকে দিয়েছে। তারা আমাকে মোবাইল করে হয়রানি করে আসছিল। আমার মা মোবাইলে জিজ্ঞাসা করলে তাকে গালাগাল দেয়া হয়। পরবর্তীতে স্কুলে গিয়ে গালাগাল দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আমাকে চড় মারে শেফা। আমিও তাকে চড় মারি।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ারের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার বাদী হয়ে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।