মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার ১৩ মে তিনি বেইজিং পৌঁছান। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সফরটি একাধিকবার পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সংকটময় সময়েই এটি বাস্তবায়িত হলো।
এই সফরে ট্রাম্প ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার সময় এমন সফর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে।
পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে চীন ও ইরান ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো একটি বিরল ঘটনা।
কাম্পবেলের মতে, এই সফরটি প্রমাণ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দুই দেশের ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে আগ্রহী।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হলেও উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পথ খোঁজার চেষ্টা থাকবে আলোচনায়।
চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই সফরকে বেইজিংয়ের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার একটি পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।








