‘বাংলাদেশে এক কোটি প্রবাসীর মধ্যে ১০ লাখ নারী৷ এখানে নারীদের অভিবাসনে কোন খরচ হয় না৷ একজন পুরুষ যে উপার্জন করেন তার কিছুটা তারা নিজেরা খরচ করেন৷ কিন্তু নারীরা যা উপর্জন করেন তার পুরোটাই তারা পাঠিয়ে দেন৷ এখন কথা হল, যে নারীরা সেখানে যাচ্ছেন তারা কিন্তু একটা নাজুক অবস্থানে থেকে যাচ্ছেন৷”
গত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত পাঁচশ নারী শ্রমিক মারা গেছেন৷ তাদের অধিকাংশই আত্মহত্যা করেছেন৷ করোনার মধ্যে অনেক নারী অভিবাসী শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন৷ নারী অভিবাসনকে আমরা ততটা নিরাপদ করতে পারিনি৷ নারী অভিবাসনকে আমরা শ্রমিক হিসেবে মর্যাদাটুকুও দিতে পারিনি৷ আর যদি নৈতিকতার কথা বলি, নারী শ্রমিকদের সঙ্গে যে দাস আচরণ করা হয়, সেটাও আমরা প্রতিকার করতে পারিনি৷ কারণ আমরা তাদের যাদের কাছে পাঠাই তারা আমাদের চেয়ে আপারহ্যান্ডে থাকে৷ গত পাঁচ-ছয় বছরে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে৷ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ কাগজপত্রে কিছু কাজ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবদিক থেকে আমরা খুব একটা এগুতে পারিনি৷।
তারা যে উপার্জন করেন তার শতভাগই অর্থনীতিতে অবদান রাখছে৷ একজন নারী অভিবাসী মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন৷ তার পুরো টাকাটাই তারা পাঠিয়ে দেন৷ এখন ১০ লাখ নারী বিদেশ থেকে এই টাকা পাঠাচ্ছেন৷ ফলে অর্থনীতিতে তাদের অবদানটা পরিসংখ্যান দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবে৷’
নারীরা যেহেতু নাজুক অবস্থান থেকে আসে, ফলে তার এই অবস্থানের সুযোগটি নেওয়া হয়৷ এখন তারা যদি গৃহকর্মে না গিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক বা নার্স এই ধরনের কাজে যায় তাহলে তাদের ঝুঁকি অনেক কমে যায়৷ ফলে এখনও আমরা তাদের অভিবাসনটা নিরাপদ করতে পারিনি৷ …প্রশিক্ষণ, বয়স, কাগজপত্র যেন ঠিক থাকে সেগুলো দেখতে হবে৷ পাশাপাশি ওই সব দেশে আমাদের যে দূতাবাস আছে সেখানে তাদের এই দায়িত্ব নিতে হবে৷
একজন প্রবাসী কর্মী যখন বিদেশ থেকে আসেন বিমানবন্দরে তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না৷ একজন শ্রমিক হিসেবে তাকে দেখা হয়৷ একই সঙ্গে তাদের যখন বিদেশে পাঠানো হয়, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়৷ এক কাজের পরিবর্তে আরেক কাজ দেওয়া হয়৷ ওই সব দেশে যে মিশনগুলো আছে তারা শ্রমিকদের সহযোগিতা করে না৷ ফলে শ্রমিক পাঠানো দেশ হিসেবে আমরা এখনও বলতে পারি না, আমরা অভিবাসীদের নিরাপদে সেখানে পাঠাতে পারছি৷ করোনার সময় আমরা দেখেছি, যখন সকল খাত মুখ থুবড়ে পড়ছিল তখন অভিবাসী শ্রমিকরা বেশি করে রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন৷ এখন আমাদের দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে৷ তাদের বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে৷