কিছু পরিসংখ্যান :জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটির তথ্য মতে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২২-এর মে পর্যন্ত ১০ লাখ ৫০ হাজার ৮১৯ জন নারী অভিবাসী হয়েছেন। যাদের অনেকের নির্যাতনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য মতে, ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সন্তান নিয়ে দেশে ফিরেছেন ১২ জন নারী। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফিরেছেন ৬৫ জন। ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর রাতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দেশে ফেরেন এক বাংলাদেশি নারী কর্মী। সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ সিডব্লিউসিএসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইসরাত শামীম বলেন, অভিবাসী নারী শ্রমিকরা যেমন দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। নিজেদের পরিবারেও স্বচ্ছলতা আনছেন। তারাই বেশি নির্যাতনের শিকার হন। তারা দালালদের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেও পাচারের শিকার হন।
আইনের আওতায় আনা : আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন মতে, পাচার হওয়া ভুক্তভোগীদের ৭১ শতাংশ নারী ও মেয়ে শিশু এবং ২৯ শতাংশ পুরুষ ও ছেলে শিশু। সুপ্রিম কোর্টের ৩০ জুন, ২০২০ প্রকাশিত পরিসংখ্যান মতে, সারা দেশে এ সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৪ হাজার ৬০১। কেন বিচার হয় না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, বিয়ে করে অনেক স্বামী স্ত্রীকে বিক্রি করে দেয় দালালদের কাছে। অনেকেই স্বামীর সঠিক নাম ঠিকানা বলতে পারেন না। তারা দরিদ্র । তাই অর্থাভাবে মামলা চালিয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। পাচার আইনে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়টি থাকলেও লোকবলের অভাবে তা সম্ভব হয় না। পক্ষান্তরে পাচারকারী চক্র প্রভাবশালী হয়।