২০০৬ সালে গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টের (জিইপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পাঠানো প্রবাসী অর্থের ৫৬ শতাংশই আসে হুন্ডির মাধ্যমে। তাই আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহারের জন্য সরকার এখন ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া অতীতের তুলনায় সহজ করার ফলে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
গত চার বছর ধরেই দেশে বাড়ছিল রেমিট্যান্সের পরিমাণ। এমনকি রেকর্ডসংখ্যক কর্মীও প্রবাসে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে প্রবাসী আয় না বেড়ে বরঞ্চ আগের তুলনায় কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এর একটি বড় কারণ হলো, বৈধ পথে আয় পাঠাতে খরচ বেশি হয়। যার কারণে অনেকে টাকা পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে হুন্ডিকে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিং করেন।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্ব বাজারে শ্রমিকের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রবাসী আয় আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। সরকার প্রবাসী আয়ে প্রণোদনার পরিমাণ আরো বাড়াতে পারে। এটি অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ কমাতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশীয় শ্রমিকের বড় একটি অংশ যেহেতু অদক্ষ, তাদের দক্ষ করে তুলতে হবে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। তাহলে অভিবাসী শ্রমিকরা শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন— রেমিট্যান্স বাড়বে। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জন্য যে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে; সরকার রেমিট্যান্স খাতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতকে আরো প্রসারিত করতে পারে। আমাদের প্রত্যাশাও সেটাই।