নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী আরফানুল হক রিফাত। তিনি বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনে গত ১০ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবো। এটা আমার প্রথম দায়িত্ব। কুমিল্লার মানুষকে আমি কথা দিয়েছি।’
বুধবার (১৫ জুন) রাতে ফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, রাত পৌনে ১০টার দিকে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী।
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লাবাসীর অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা ও যানজট। এই দুইটা সমস্যা সমাধানে এক বছরের সময় চাচ্ছি। ইনশাল্লাহ এই সময়ের মধ্যে এই দুটি সমস্যা সমাধান করবো।’
কুসিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ১০৫ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। রিফাত তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাক্কুর চেয়ে ৩৪৩ ভোট বেশি পেয়েছেন। এদিন, রাতে পৌনে দশটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী এই ফল ঘোষণা করেন।
মেয়র পদে অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত নেতা নিজামউদ্দিন কায়সার ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ চলে।
নির্বাচনে মেয়র পদে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত (নৌকা), টানা দুই বারের সদ্য সাবেক মেয়র ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি), স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন ১০৮ জন প্রার্থী।
তৃতীয় বারের মতো এবার হচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভোট। ২৭টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এ সিটির মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। নারী ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এরমধ্যে হিজড়া ভোটার দুজন।