ধর্ষণের বিচার পাননি ট্রাইব্যুনালে। উপায়ন্তর না দেখে ভিকটিম এসেছেন হাইকোর্টে। সশরীরে আদালত কক্ষে দাড়িয়ে চাইলেন বিচার। বললেন, স্যার আমি ধর্ষণের শিকার। গরীব মানুষ, তাই বলে কি বিচার পাব না। আমি উচ্চ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দীনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার (১৫ জুন) সকালে এমন ঘটনার অবতারণা হয়। এরপরই জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন নির্যাতিত নারীকে লিগ্যাল এইড দিতে সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড অফিসকে নির্দেশ দেন।
দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
প্রসঙ্গত মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর মা নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় ২০২০ সালের ২১ নভেম্বর মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় একজনকে। মামলার এজাহারে বলা হয়, নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে আসামি। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ও দণ্ডবিধির ৩২৮ ধারায় মামলাটি করা হয়। ওই মামলার তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিকে অব্যাহতি দেয় নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। এই আদেশের বিরুদ্ধে নারাজি দেন মামলার বাদী। কিন্তু সেই নারাজি আবেদন খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০ টায় এজলাসে আসেন বেঞ্চের দুই বিচারপতি। এসময় রেওয়াজ অনুযায়ী আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিচারপ্রার্থীরা ছিলেন দাড়িয়ে। দুই বিচারপতির আসন গ্রহণের পর ডায়াসের সামনে এগিয়ে যান ওই কিশোরী ও তার মা।
এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আপনারা কে? কি চান? তখন ওই কিশোরী নিজের পরিচয় দিয়ে আদালতে বলেন, আমার বয়স ১৫ বছর। উনি আমার মা। আমি ধর্ষণের শিকার। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর একজন সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু নীলফামারীর আদালত তাকে খালাস দিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের টাকা পয়সা নাই। আমরা আপনার কাছে বিচার চাই।
এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, আপনার কাছে মামলার কোন কাগজপত্র আছে কি? কিশোরী বলেন, আছে। তখন আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি বলেন, এখানে লিগ্যাল এইডের কোনো প্যানেল আইনজীবী আছেন? তখন আদালতে উপস্থিত লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বদরুন নাহার দাঁড়ান। এরপর বিচারপতি ওই কিশোরীকে আইনগত সহায়তা দিতে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে নির্দেশ দেন।
পরে প্যানেল আইনজীবী বদরুন নাহার ইত্তেফাককে বলেন, লিগ্যাল এইড থেকে কিশোরীর পক্ষে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি আগামী রবিবার আপিল দায়ের করা সম্ভব হবে।