থাইল্যান্ডের একটি দ্বীপে ৫৯ জন রোহিঙ্গার সন্ধান পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, অবৈধপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় পাচারকারীরা সম্ভবত তাদের এখানে ফেলে গেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ডন।
জানা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার থাইল্যান্ডের দক্ষিণ সাতুন প্রদেশের কোহ ডং দ্বীপে তাদের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুরাচেত হাকপান। এই দলে ৫ শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সুরাচেত হাকপান আরও বলেন, ‘আমরা তাদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছি। তারা মানব পাচারের শিকার কিনা বা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে।’
মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাইল্যান্ডের সমুদ্রের ওপর দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে। এরা বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে ব্যাপকভাবে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। ইতিমধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।
থাই পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালতে বিচারের পর তাদের মিয়ানমারে পাঠানো হতে পারে।
পুলিশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃতদের কাছে কোনো খাবার ছিল না। সম্ভবত তিন থেকে পাঁচ দিন যাবৎ তারা অনাহারে রয়েছে।
উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের একজন জানান, তারামোট ১৭৮ জন ব্যক্তি তিনটি নৌকায় করে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছিলেন। এ জন্য একজন দালালকে তারা প্রায় ৫ হাজার রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ার মুদ্রা) দিয়েছেন।
থাই পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১১৯ জনকে বহনকারী প্রথম দুটি নৌকাকে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার করেছে। এ খবর পাওয়ার পর তৃতীয় নৌকার ক্রুরা তাদের কোহ ডং দ্বীপে নামিয়ে দেয় এবং বলে যে, এটিই মালয়েশিয়া। তারপর তারা ওই ৫৯ রোহিঙ্গাকে সেখানে রেখে পালিয়ে গেছে।