পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শুক্রবার এই ঘোষণা দেয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশটি। বৈশ্বিক চাহিদার অর্ধেকের বেশি পাম অয়েলের যোগান দেয় ইন্দোনেশিয়া।
এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জোকো উইদদো জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিজ দেশে পণ্যটির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রেকর্ড মূল্য বৃদ্ধির মধ্যে নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। রান্নার কাজ ছাড়াও কেক থেকে কসমেটিকস পণ্যে পাম অয়েলের ব্যবহার হয়ে থাকে। পণ্যটির ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে বাড়বে প্যাকেটজাতসহ খাদ্যপণ্যের দাম।
২৮শে এপ্রিল থেকে কার্যকর হলেও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরপরই বাড়ছে সয়াবিনসহ বিকল্প ভোজ্যতেলের দাম। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে এরই মধ্যে সূর্যমুখীসহ অন্য ভোজ্যতেলের রেকর্ড দাম বেড়েছে। গ্রাহকদের কাছে ভোজ্যতেল বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। কৃষ্ণ সাগরসহ সমুদ্রপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সরবরাহ সংকট তীব্র হচ্ছে।
প্রক্টর এন্ড গ্যাম্বল, নেসলে, ওরিও, ইউনিলিভারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল আমদানি করে। এর পরের অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়াও শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে উৎপাদন কমিয়ে এনেছে পাম অয়েলের।
ইন্দোনেশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল আমদানি করে ভারত ও চীন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে অগ্রহণযোগ্য বলছে ভারত। চলমান পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্য মজুদ, আমদানি নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত থেকে সব দেশকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র।