বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইন থেকে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
ফেরদৌসী কাদরী ছাড়াও বিশ্বব্যাপী মর্যাদাসম্পন্ন এ পুরস্কারটি আরও পেয়েছেন পাকিস্তানের আমজাদ সাদিক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্টিভেন মানসি।
ফেরদৌসী কাদরী আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।
উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ড. ফেরদৌসী কাদরীর প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। কলেরা মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের খাওয়ার উপযোগী টিকা (ওসিভি) নিয়ে যারা কাজ করেছেন ড. ফেরদৌসী তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০২০ সালে তিনি ল’রিয়েল-ইউনেসকো ফর ওমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড পান।
ফেরদৌসী কাদরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লিভারপুল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। এরপর দেশে ফিরে ১৯৮৮ সালে আইসিডিডিআরবিতে যোগ দেন তিনি। এখানে সংক্রামক রোগ নিয়ে কাজ করেন তিনি।
ফেরদৌসী কাদরী কলেরা ও টাইফয়েডের মতো রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ ইত্যাদি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফেরদৌসী কাদরী মুখে খাওয়ার উপযোগী টিকার (ওসিভি) উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখেন।
২০১৭ সাল থেকে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ওসিভি টিকাদানে বিশেষজ্ঞ একটি দলের নেতৃত্ব দেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবিরকে কলেরার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। করোনার সময়ে ড. কাদরী টিকাসংক্রান্ত গবেষণা ও পরীক্ষার কাজে যুক্ত রয়েছেন।
ম্যাগসেসের ওয়েবসাইট ২০২১ সালের পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ও তাদের অবদানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।