তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের যে মৈত্রীর বন্ধন তা রক্তের অক্ষরে লেখা। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের ঐতিহাসিক অবদানের কথা বাঙালি জাতি কখনো ভুলবে না।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা পাঁচ তারকা পলো টাওয়ারের ব্যাংকুয়েট দরবার হলে বুধবার সকালে দ্বিতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
এ সময় আলোচনায় অংশ নেন- ত্রিপুরার তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, শিল্পী মমতাজ বেগম এমপি, সাইমুম সারওয়ার কমল এমপি, তথ্য সচিব মকবুল হোসেন, ভারতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের উপ-হাইকমিশনার নুরাল ইসলাম, আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ।
বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রীর হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন এবং তথ্য মন্ত্রীও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উপহার সামগ্রী তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র শেখ হাসিনাঃ এ ডটার’স প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীরা ও চলচ্চিত্র জগতের নায়ক ফেরদৌস ও নায়িকা অপু বিশ্বাস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়।
মহান মুক্তি সংগ্রামে ত্রিপুরার মানুষের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য ত্রিপুরার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাকে নিয়ে আমার আবেগ এবং উচ্ছ্বাস রয়েছে। আমরা দুই দেশের মানুষ হলেও আমাদের ভাষা এক, সংস্কৃতিরও মিল রয়েছে, আমরা একই পাখির কলতান শুনি।
হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত তথা ত্রিপুরার অবদান আমরা কখনো ভুলবো না। ত্রিপুরার মানুষ শুধু ঘরের দরজাই খুলে দেয়নি তারা মনের দরজাও খুলে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের অবদানে বাংলাদেশের মানুষ ত্রিপুরার মানুষের কাছে যেমনি কৃতজ্ঞ, আমরাও একইভাবে আপ্লুত।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ত্রিপুরায় বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, তিনি ত্রিপুরার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বকালে ইউরোপের অনেক দেশে আমন্ত্রিত হয়েছি কিন্তু কোনো দেশে যাইনি। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফর হবে বাংলাদেশ। কারণ আমার মাতৃতুল্য শেখ হাসিনা আমাকে বলেছিলেন- তোমাকে আমি দাওয়াত দিয়েছি- বিপ্লব, তুমি বাংলাদেশে আসবে। আমি সেই থেকে মনে লালন করে রেখেছি মুখ্যমন্ত্রী হিসেব আমি যদি কখনো বিদেশ সফর করি তাহলে বাংলাদেশই হবে আমার প্রথম বিদেশ সফর।
এ সময় বিপ্লব কুমার বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় ২৫ মিনিট কথা বলেন। তিনি আমার মায়ের মতোই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সব উপদেশ মেনে চলছি এবং কাজের ক্ষেত্রে অনেক সফলতাও পেয়েছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একাত্তরে, আমারও জন্ম একাত্তরে, কাজেই বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে আমার জন্মের একটা ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ এবং আখাউড়া-আশুগঞ্জ সড়কপথ চালু হলে দুই দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সমৃদ্ধ হবে। চট্টগ্রামের সঙ্গে পূর্বোত্তর ভারতের দূরত্ব এবং খরচ অনেক কমে আসবে।
তিনি বলেন, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণের মধ্যদিয়ে আরেকধাপ এগিয়ে যাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও উভয়ই দেশে ভূমিকা রাখবে।
আগরতলায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ মঙ্গলবার বিকালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের যান তথ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত নায়ক-নায়িকাসহ ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল একইপথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা যান।