কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন সড়কের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ বছরেও শেষ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিছু এলাকার ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় তিনবার বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। তবুও কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
কুমিল্লার টমসমব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ঝুলে আছে বাগমারা এবং লাকসাম অংশের কাজ। দীর্ঘ সময়েও এ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় সড়কে চলাচলকারী যাত্রী এবং চালকদের দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। ধুলোবালি আর যানজটে নাকাল মানুষরা এর থেকে মুক্তি চান।
মহসিন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ঢাকা পোস্টকে বলেন, সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় যানজটে পড়ে থাকি নিয়মিত। তাতে সময় অপচয় হয়, আয় রোজগার কম হয়। বাসায় গেলে পরিবারের লোকজন বলে গাড়ি চালাই না, বসে থাকি। অথচ গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হলেই দিন পার হয়ে যায়। এটা তো তাদের বোঝানো যায় না।
জাকির হোসেন নামে বাগমারা এলাকার এক যাত্রী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা পাঁচ বছর ধরে এ সড়কে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। ধুলোবালি আর যানজটে জনজীবন খুবই বিপর্যস্ত। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কের সংকট নিরসন করে কাজ শেষ করার অনুরোধ জানাই।
রাসেল নামে এক যাত্রী ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুধুমাত্র বাগমারা বাজার পার হতেই ২-৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কুমিল্লা থেকে ঢাকা যেতে যত সময় লাগে, বাগমারা পার হতে ঠিক তত সময় লাগে। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।
অমর কৃষ্ণ বণিক নামে এক কলেজ শিক্ষক ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার থেকে চার লেন সড়ক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এত দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ না হওয়াটা দুঃখজনক। সড়কের বাগমারা এলাকায় কিছু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব, সকল সংকট নিরসন করে যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শেষ করা হোক, মানুষ খুব কষ্টে আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ঝুলে আছে সড়কের ৫ শতাংশ কাজ। তবে এই সংকট লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার, শানি চোঁ অ্যাডভোকেট বাসেত মজুমদারের বাড়ির পাশে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা রয়েছে। বাগমারা বাজার এলাকার ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করা আছে, যা জানা ছিল না সড়ক বিভাগের। রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া লাকসামে ডিপিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে তৈরি হবে ওভারপাস। সেই ওভারপাস তৈরি হলে তার ওপর চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে সওজ কর্তৃপক্ষ।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীত চাকমা ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুধুমাত্র ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সামান্য কিছু অংশের কাজ আটকে আছে। এছাড়া ২০০৬ সালের একটি রিট ছিল হাইকোর্টে যা আমাদের জানা ছিল না। হাইকোর্টে রিট এবং বাসেত মজুমদার গংদের মামলা না থাকলে কাজ শেষ হতো অনেক আগেই। তাছাড়া লাকসামে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলওয়ে ওভারপাস হবে। যার কাজ শুরু হয়েছে অলরেডি। ওভারপাস নির্মাণ শেষ হলে সেখানে চার লেন সড়ক তৈরি করা হবে।