প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের গ্রেফতারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। বুধবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কে সেন্টার ফর এনআরবি’র ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২২’র আওতায় ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা: প্রবাসীদের বিনিয়োগ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তারা।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম।
কনস্যাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, সবাই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের চিন্তা করছেন-এতে কোনো সন্দেহ নেই। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধরে রাখতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান উচ্চারিত হলো তা আমি সময়ে সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমীপে উপস্থাপন করে আসছি। এ ধরনের আলোচনার সুফল অবশ্যই পাওয়া যাবে।
কনস্যাল জেনারেল উল্লেখ করেন, হুন্ডি প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করতে সবাইকে সরব থাকতে হবে। হুন্ডির মাধ্যমে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সেই অর্থ জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখে না। এমনকি ভবিষ্যতে সেই অর্থে বাংলাদেশে কোনো কিছু করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সেটি কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
সেকিল চৌধুরী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ছাড়াও করোনায় গোটাবিশ্বের অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা। বাংলাদেশ তার বাইরে নয়। তবুও ডলারের মূল্যমানের যে ব্যবধান তা দূর করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের গতি টেনে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি লন্ডনের ৭ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে গিয়ে যে ধরনের পরিস্থিতির ভিকটিম হয়েছেন, তা প্রবাসে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, এ ঘটনায় প্রবাসীরা আতংকিত হয়ে পড়েছেন এবং এর ফলে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ পরিস্থিতির অবসানে সবাইকে সততা ও নিষ্ঠাবান হতে হবে। তিনি প্রবাসীদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতামূলক আচরণের আহ্বান জানান।