সর্বশেষ
সব ক্যাটাগরি

লিড নিউজ

নেতানিয়াহুর বিদায়, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্বে বিরোধী নেতা

ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছেন বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের ক্ষমতার সমীকরণে তৈরি হয়েছে নতুন অধ্যায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি এবার শেষ হতে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্য?

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক। রোববার (১১ নভেম্বর) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইজেনকোটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর দেড় দশকেরও বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। ১২০ আসনের নেসেটে গাদি আইজেনকোটের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন ৬৭ জন সংসদ সদস্য। বিপরীতে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ৪৬ জন।

নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে সফল না হলে প্রেসিডেন্ট চাইলে তাঁকে আরও ১৪ দিন সময় দিতে পারবেন।

নির্বাচনে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থি দলগুলোকে নিয়ে গঠিত নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। তবে ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইজেনকোট আগেই জানিয়েছেন, আরব দলগুলোকে সরাসরি সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে চান না তিনি। তবে তাদের বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উগ্র অর্থোডক্স দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে নেসেটে ৬১ আসনের সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নিশ্চিত হতে পারে।

এদিকে ১১টি আসন পাওয়া আরব জোট জয়েন্ট লিস্টের শীর্ষ নেতা আহমদ তিবি প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা ঠেকাতেই তাঁরা বিরোধী শিবিরকে সমর্থন দিয়েছেন।
তিবি বলেন, এটি তাঁদের স্বপ্নের সরকার নয়। তবে নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও স্মোট্রিচের পতনই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ভিডিও বার্তায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসলামপন্থি ও আরবদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে কোনো সরকার গঠিত হলে ইসরায়েল ভেতর থেকেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন আহমদ তিবি। তিনি নেতানিয়াহুকে পুরো অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দখলদার ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক বলে মন্তব্য করেন।

তবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেই যে আইজেনকোটের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত, তা কিন্তু নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো নেতাকে একই দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফাতেও সরকার গঠনের উদ্যোগ ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু।

সব মিলিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভিত ধরে রাখতে পারবেন নেতানিয়াহু, নাকি বিরোধীদের নতুন সমীকরণে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে তাঁকে? সরকার গঠনের আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

শেয়ার করুন: