বুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আফ্রিকা
  6. আবহাওয়া
  7. আমেরিকা
  8. আয়ারল্যান্ড
  9. ইউক্রেন
  10. ইউরোপ
  11. ইতালি
  12. কানাডা
  13. খেলাধুলা
  14. গ্রাম বাংলা
  15. চিত্র বিচিত্র

ব্যালটে থাকলে বিপুল ব্যবধানে জিততাম : ট্রাম্প

প্রতিবেদক
Probashbd News
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কায় পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সমর্থন পাওয়া একাধিক রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নীতি, ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ায় এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিভিন্ন নিয়োগ আটকে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।

নির্বাচনের পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার প্রভাব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ফলাফল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বসে নির্বাচনের ফল দেখেন তিনি।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বারবার ভোটারদের বলেছিলেন, ‘ভোটের ব্যালটে আমাকে প্রার্থী হিসেবে কল্পনা করুন।’ রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারে নেমে তিনি নিজের শুল্কনীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেরও সমর্থন জানিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনের ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে কী পরিস্থিতি হতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছিলেন ভোটারদের। কিন্তু নির্বাচনের ফল তার প্রত্যাশার বিপরীত হয়েছে।

পরাজয়ের দায় নিতে অবশ্য রাজি নন ট্রাম্প। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারে ভালো করেছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হারের জন্য তাদেরই দায়ী করেন তিনি।

নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। থাকলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম!’

মঙ্গলবারের নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আইওয়া, টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও কানসাসে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনগুলোতে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এসব রাজ্যে ট্রাম্প নিজে কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন কিংবা তাদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকোর কাছে হেরেছেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন। দুর্নীতির অভিযোগে নিজ দলের সদস্যদের উদ্যোগে অভিশংসনের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তার বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েও প্রকাশ্যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। এসব বিতর্কের পরও প্যাক্সটনকে সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বিপরীতে বর্তমান সিনেটর জন করনিনকে যথেষ্ট অনুগত মনে করতেন না তিনি।

সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে প্রশ্ন উঠেছিল।

উত্তর ক্যারোলাইনায়ও ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী জয় পাননি। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার আসন ধরে রাখতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাইকেল হোয়াটলিকে সমর্থন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ডেমোক্র্যাট রয় কুপারের কাছে পরাজিত হয়েছেন হোয়াটলি।

মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কানসাস ও আইওয়ায়ও রিপাবলিকানদের হারতে হয়েছে। কানসাসে রিপাবলিকান রজার মার্শালকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিলটন। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক। এসব রাজ্যে ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব বেশি পড়েছিল।

ওহাইওতে দুই বছর আগে সিনেটের আসন হারানো ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন এবার ফিরে এসেছেন। রিপাবলিকান মনোনীত সিনেটর জন হাস্টেডকে হারিয়েছেন তিনি। এই আসনে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বারবার অংশ নিয়েছিলেন। হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়েও নির্বাচনী সমাবেশে প্রায়ই প্রশংসা করতেন ট্রাম্প। সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় হাস্টেডকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারের সময়ও এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

অন্যদিকে জর্জিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে রিপাবলিকান মাইক কলিন্সকে হারিয়েছেন জন অসফ। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক কলিন্সের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিনিধি পরিষদের একটি অমীমাংসিত নৈতিকতা তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, উত্তর ক্যারোলাইনা, ওহাইও, জর্জিয়া, আইওয়া ও কানসাস, এই সাতটি রাজ্যেই জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার এসব রাজ্যের একাধিক আসনে তার সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় ঘটেছে।

টেক্সাসে রিপাবলিকানদের আরেকটি বড় পরাজয় ঘটেছে গভর্নর নির্বাচনে। বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা। অ্যাবটকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তার প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাবটের পরাজয়ের জন্য তাকেই দায়ী করেন প্রেসিডেন্ট। এ সময় অ্যাবটকে ‘রাইনো’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর অর্থ, নামেই রিপাবলিকান, কিন্তু কাজে নন।

নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ওপর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পরিচালিত বিস্তৃত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপরীতে প্রতি ১০ জনে প্রায় তিনজন মনে করেন, তার নীতিতে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে।

শুল্কনীতি নিয়েও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটারের ধারণা, ট্রাম্পের শুল্কনীতি জাতীয় অর্থনীতি কিংবা তাদের স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা ভোটের ফলেও প্রতিফলিত হয়েছে।

জরিপে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার নিয়েও নেতিবাচক মনোভাবের চিত্র পাওয়া গেছে। অর্ধেকের বেশি ভোটার মনে করেন, তিনি শক্তিশালী নেতা নন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়াই করেন না, তার অগ্রাধিকার সঠিক নয় এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো মানসিক সক্ষমতাও তার নেই। প্রায় ১০ জনে ছয়জন মনে করেন, দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন ট্রাম্প। বিপরীতে প্রতি ১০ জনে প্রায় চারজন মনে করেন, তিনি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

নিউ জার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্পের ইচ্ছা ছিল সবাই যেন মনে করে তিনি ব্যালটে রয়েছেন। এখন সেটাই ঘটছে। সবাই তাকে এবং মানুষের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছে।’

নির্বাচনে নিজেকে সামনে রাখার কৌশলটি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, এতে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা আমেরিকাকে আবার মহান করার স্লোগানে বিশ্বাসী সমর্থকেরা ভোট দিতে উৎসাহিত হবেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে প্রচারের কেন্দ্রে রাখার পক্ষেই ছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ভোটারদের সামনে ট্রাম্পের নীতির বিষয়টি তুলে ধরা।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রিসভার বিভিন্ন পদে নিয়োগ এবং আজীবন মেয়াদের ফেডারেল বিচারক নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ, বেশি বাজেট ও কর্মী এবং সমন জারির ক্ষমতা তাদের হাতে আসবে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তথ্য চাওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

ডেমোক্র্যাট নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কোন কোন বিষয়ে তদন্তে গুরুত্ব দেবেন তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এবং হোয়াইট হাউসের প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগাযোগ থাকবে তাদের নজরে।

তদন্তের সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, জেফরি এপস্টেইন তদন্তে প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এসব বিষয়ে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কমিটি ও জনবল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা।

তবে তদন্তের মুখে পড়লে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কৌশল অনুসরণ করতে পারে। সে সময় কংগ্রেসের তথ্য ও সাক্ষ্য চাওয়ার অনুরোধের জবাব দিতে দেরি করেছিল প্রশাসন। কিছু তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার বিশেষ অধিকার দেখিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষ দুই বছরও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এবার কংগ্রেসের উভয় কক্ষের রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কাকে বিভিন্ন সময়ে তেমন গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। বিরোধী পক্ষকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরে নিজের দলের সমর্থন ধরে রাখা এবং নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ বাড়ানোর বিষয়েও তিনি সচেতন ছিলেন।

এদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সম্ভাব্য আইনগত লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের আনা কোনো আইন পাস হলে তা ঠেকাতে নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের কথা বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত লাল রঙের একটি টুপির ছবিও প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট। টুপিটিতে ‘ভেটো’ শব্দটি সেলাই করা ছিল।

তথ্যসূত্র : পিবিএস।

সর্বশেষ - বিনোদন