দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত ঐতিহাসিক এক রায়ে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছেন দেশটির আদালত।
এর ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই রায়ের পেছনে মূল কারণ ছিল গত বছরের শেষের দিকে তার বিতর্কিত সামরিক আইন ঘোষণা, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছিল।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ইউন গত বছর সামরিক আইন জারি করে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত এই রায় ঘোষণা করে। আদালতের মতে, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন। তার দাবি ছিল, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি ও উত্তর কোরিয়াপন্থি ব্যক্তিরা সরকারে অনুপ্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সামরিক আইনের আশ্রয় নেন। তবে আদালত মনে করে, এই পদক্ষেপ ছিল সংবিধানবিরোধী ও জনগণের অধিকার হরণ করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিচারপতি হিউং-বে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন, যা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী । এর মাধ্যমে তিনি শুধুমাত্র সংবিধানের প্রতি তার দায়িত্ব অস্বীকার করেননি, বরং কোরিয়ার জনগণের আস্থাকেও চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু অবৈধই নয়, সাংবিধানিক মূল্যবোধের বিপরীত। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এমন কিছু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচারপতি মুন তার রায়ের শেষে বলেন, এই পদক্ষেপের ফলাফল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর। তবে একজন বসা প্রেসিডেন্টকে অপসারণের রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্য যতই হোক না কেন, সংবিধান রক্ষা এবং গণতন্ত্রের শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।