এটি কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য কিংবা উপন্যাসের কাহিনী নয়। এটি একটি সত্য ঘটনা এবং এই আখ্যানের নায়িকার নাম কেয়ামণি। যিনি একজন সুস্থ সবল তরুণী হওয়া সত্ত্বেও জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণকে।
জড় বুদ্ধি নিয়েই জন্ম হয়েছিলো সৌরভের। কিন্তু কে জানতো বুদ্ধি-সুদ্ধি কম হলেও সৌরভ নামের ছেলেটি, যুবা বয়সে একদিন ঠিকই সুরভী ছড়াবে সুন্দরী কেয়ার মনে। কেয়ার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই তিনি যেন খুঁজে পেলেন নতুন করে বাঁচার ঠিকানা।
প্রতিবন্ধী বলে উপেক্ষা অবহেলাই যেখানে নিত্যদিনের চিত্র, সেখানে একজন প্রতিবন্ধীকে স্বামী হিসেবে বরণ করা একটি বিরল ঘটনা। চিকিৎসা বিজ্ঞান যেখানে ব্যর্থ, সেখানে ভালোবাসার জোরেই স্বামীকে সুস্থ করে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করলেন এই তরুণী।
রীতিমতো জমকালোভাবেই দেয়া হলো সৌরভ আর কেয়ামণির বিয়ে। সৌরভের গায়ে হুলুদের দিনে পুরো বাড়ি গমগম করতে থাকলো আত্মীয় স্বজনের পদভারে। আশীর্বাদে সিক্ত করলো আত্মীয় স্বজন সবাই। প্রতিবন্ধী বলে ঘাটতি ছিলোনা কোনো আয়োজনে।
আর দশটা বিয়ের মতোই সেদিন সাজানো হয়েছে গেট, ফুটানো হলো আতস বাজি, সাথে ছিলো ব্যান্ড পার্টির বাজনা। হিন্দু রীতির বিয়ে পর্ব শেষ করে অতিথি আপ্যায়নে ছিলোনা কোনো কার্পণ্য।
জেলা শহর গাইবান্ধার টক অব দ্য টাউন ছিলো এই বিয়ে। বৌভাতের অনুষ্ঠান নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই । সবার মুখে মুখে নববধু কেয়ামণির কথা। এই মেয়েটার আত্মত্যাগে কেউ হয়েছেন হতবাক, প্রশংসার বাক্য ছিলো বেশিরভাগ মানুষের মুখে।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও এতোদিন প্রতিভা আর সৌন্দর্যে সবাইকে মুগ্ধ করে রেখেছিলো সৌরভ। নিজে সুস্থ সবল হয়েও একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলেকে জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে ছাড়লেন কেয়ামণি নামের এই তরুনী।
ডিবিসির ক্যামেরায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কাঁদলেন কেয়ামণি। কাঁদালেন উপস্থিত সবাইকে।
সৌরভের জীবনে কেয়ামণির উপস্থিতিকে একটি দুর্লভ ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলেন তারা। কেয়ামণির হাত ধরে প্রতিবন্ধী সৌরভ জীবনকে চিনবে নতুন করে। তার মুখে ফুটবে সাবলিল ভাষা। সুখী সুন্দর হবে তাদের দাম্পত্য জীবন। এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।