২০ বছর আগে আজকের এই দিনে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সাক্ষী হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেদিন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায় আত্মঘাতী হামলা চালায়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু কুলেন। তার পাশেই একটি আকাশচুম্বী ভবনে যখন প্লেন আঘাত হানে, বিস্ফোরণের শব্দে তিনি নিজেও কেঁপে উঠেছিলেন।
এরপরের কয়েক মিনিটেই তাকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছিল। সে সিদ্ধান্তে কোনো ভুল হলে তার জীবনটাই হয়তো পাল্টে যেত, হয়তো অন্যদের মতো তাকেও প্রাণ হারাতে হতো। কিন্তু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কারণেই অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথ টাওয়ারে বিমান হামলার কিছুক্ষণ আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। আর সে কারণেই ভয়াবহ ওই হামলার ২০ বছর পর আজ তিনি আমাদের কাছে সেদিনের গল্প করতে পারছেন।
নর্থ লানার্কশায়ারের মাদারওয়েলে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন অ্যান্ড্রু। ১৯৮০ সালে তার বয়স যখন ১০ বছর তখন তার বাবা পিটসবার্গে চাকরি পান এবং তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসে।
২৫ বছর বয়সে তিনি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কেফ, ব্রুয়েতে অ্যান্ড উডসে (কেবিআর) একজন বিশ্লেষক হিসেবে কাজে যোগ দিতে ম্যানহাটনে চলে যান। টুইন টাওয়ার হামলার দিন সাউথ টাওয়ারের ৮৯ তলায় পৌঁছান অ্যান্ড্রু। একটি ব্যাংকের সঙ্গে বড় চুক্তির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি টিমের সঙ্গে কাজ করছিলেন তিনি।
অ্যান্ড্রু বলেন, দিনটি ছিল চমৎকার। আকাশ বেশ পরিষ্কার ছিল এবং কোনো মেঘ ছিল না। ৮৯ তলা ভবন থেকে স্ট্যাচ্যু অব লিবার্টি, কুইন্সের পূর্ব দিক এবং ব্রকলিনসহ সবকিছুই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল।
তিনি বলেন, ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকেই বিশ্লেষক, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য বিক্রয় প্রতিনিধিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিক্রয়কর্মী এবং ব্যবসায়ীরা যখন সকালে লোকজনকে ফোন করে তাদের ব্যবসায়িক কাজ শুরু করছিলেন ঠিক সে সময়ই নর্থ টাওয়ার থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে কী ঘটছে। কাছাকাছি ভবনে বিস্ফোরণের কারণে আমাদের ভবনও কেঁপে উঠেছিল। আমি সে সময় দেখলাম ধসে পড়া ভবনের কাছ থেকে ধুলোবালি এবং ধ্বংসাবশেষ এদিক সেদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, আমি সে সময় চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম এবং হাঁটা শুরু করলাম। এরপর আমি ইকুয়িটি ডেস্কে গেলাম যেখানে আমার সহকর্মী ডেরেক সোয়ার্ড ছিল। আমার মনে হয়েছিল সে তখন তার ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিল।
সে সময়ই আমি এবং আমার তিন সহকর্মী সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা ওই ভবন থেকে বের হয়ে যাব। আমরা ৮৯ তলা থেকে ৪৪ তলায় নামতে শুরু করলাম। কিন্তু সে সময় কর্তৃপক্ষ আমাদের অফিসে ফিরে যেতে বলছিল। ৭৮ তলায় গিয়ে লিফটের বাটন জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা বের হয়ে যাব। ওই ভবনে বিমান হামলা চালানোর কিছুক্ষণ আগেই নিচে নামার জন্য লিফটের বাটনে চাপ দিয়েছিলেন তিনি। যদি লিফট নিচে নামার বদলে উপরে উঠত তাহলে সেদিন হয়তো তারাও মারা পড়তেন।
তিনি বলেন, সে সময় খুব বিশৃঙ্খলা হচ্ছিল। বেশ কয়েকজন সহকর্মীসহ তাকে লিফট থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় ৩০ সেকেন্ড পরই তার এক সহকর্মী ৪৩ তলা থেকে নেমে আসেন এবং তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন যে যত দ্রুত সম্ভব তারা ওই ভবন থেকে বেরিয়ে আসবেন।
তারা এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করতে চাননি এবং ভবনের পূর্ব দিক খুঁজে পেয়েছিলেন এবং সেখান থেকে দ্রুত তারা রাস্তায় নেমে আসেন। তিনি বলেন, আমরা ওই ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় এটি ধসে পড়ে। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে আমাদের কোনো আঘাত লাগেনি।
অ্যান্ড্রুর বয়স এখন ৫১ বছর। সাউথ ক্যারোলিনায় তিনি এখন ইতিহাস এবং অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওইদিনের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশ নিয়েছেন। ওই হামলার পর তার জীবনের অনেক কিছুই বদলে গেছে। অ্যান্ড্রু বলেন, তিনি তার জীবনের চলার পথে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। ‘