যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ক্রুড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৫ দশমিক ১২ ডলারে নেমেছে। মূলত দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছাড়তে শুরু করায় এই দরপতন শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করলেও ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছিল, আলোচনার খবরে সেই উত্তেজনা এখন স্তিমিত। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না, যার ফলে দেশটি প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশের বাজারে সম্প্রতি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। বাংলাদেশে দাম না কমার প্রধান কারণ হিসেবে ডলারের তীব্র সংকট এবং টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চমূল্যকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও উচ্চ বিনিময় হারের কারণে আমদানি খরচ কমছে না। এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আগের লোকসান কাটিয়ে ওঠা এবং সরকারের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির কারণে বিশ্ববাজারের প্রভাব দেশের বাজারে আসতে অন্তত এক মাস সময় লাগে। যদি বিশ্ববাজারে তেলের এই দরপতন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকে, তবে আগামী মাসের শুরুতে নতুন দাম সমন্বয়ের সময় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, কারণ বুধবারের মধ্যে চুক্তি না হলে পুনরায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ার যে হুঁশিয়ারি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা তেলের বাজারকে আবারও অস্থির করে তুলতে পারে।











