দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন ২০১৮ সালে। এর পরও তিনি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে গেছেন।
আইপিএলের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে পাকিস্তানের লাহোর কালান্দার্স, বিপিএলের রংপুর রাইডার্স, বিগ ব্যাশের ব্রিসবেন হিটসহ অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সিই গায়ে জড়িয়েছেন। এতে সাফল্যের বহু পালক যুক্ত হয়েছে তার মুকুটে।
গত বছরের নভেম্বরে হঠাৎ সব ধরনের খেলায় ইতি টানেন এ তারকা ব্যাটসম্যান।
ক্রিকেটকে না বলার কারণ নিয়ে সম্প্রতি ডি ভিলিয়ার্স টাইমস লাইভসের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ তারকা জানিয়েছেন, তিনি ক্রিকেট খেলেছেন আনন্দের জন্য। কিন্তু ভারতে দীর্ঘ আড়াই মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএলে খেলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন।
এ প্রসঙ্গে ডি ভিলিয়ার্সের বক্তব্য— যখন আমি নিয়মিত রান পাচ্ছিলাম না; এবং দলের জন্য ভালো করার আনন্দ উপভোগ করতে পারছিলাম না, তখনই খেলা থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিই। এ সময় ভিলিয়ার্সের মূল্যায়ন, মাঠে সক্ষমতার সবটুকু দিতে পারেননি।
অবসর নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বলেছিলেন, আগে যেমন আগ্রহ-উদ্দীপনা নিয়ে ক্রিকেট খেলতেন, এই বয়সে এসে তেমনটি পাচ্ছেন না বলেই এ সিদ্ধান্ত। অবসর ঘোষণার পর ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘অসাধারণ একটা যাত্রা ছিল আমার। কিন্তু আমি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই ছোটবেলায় আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে যখন বাড়ির উঠোনে ক্রিকেট খেলতাম, তখন থেকেই খেলাটা উপভোগ করেছি, চূড়ান্ত আগ্রহ নিয়ে খেলেছি। এখন ৩৭ বছর বয়সে এসে সে আগ্রহ অত বেশি কাজ করে না এখন আর। এটিই বাস্তবতা, যা আমাকে মেনে নিতে হবে।
১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ডি ভিলিয়ার্স। ২০২০ সালে জাতীয় দলের হয়ে আবারও ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডকর্তাদের অনাগ্রহের কারণে সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে ২০০৮ থেকে তিন বছর খেলে ডি ভিলিয়ার্স ২০১১ সাল থেকে আইপিএলে খেলছিলেন বেঙ্গালুরুর হয়ে। এর পর আর ফ্র্যাঞ্চাইজি বদল করেননি। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব ছাড়ার পর তিনি বেঙ্গালুরুর অধিনায়কত্ব পেতে পারেন, এমনটিই মনে করা হচ্ছিল। অবসরের ঘোষণা দিয়ে সে আলোচনা থামিয়ে দেন ডি ভিলিয়ার্স।