সব কিছু পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকেই নতুন জীবনের সন্ধান পেলেন পটুয়াখালীর শাখাওয়াত হোসেন সোহাগ। সরকার কিংবা কোনো দাতা সংস্থা নয়, তার পাশে এসে মানবিক সহায়তার হাত বাড়ালেন শৈশবের স্কুল জীবনের সহপাঠীরাই।
সম্প্রতি পটুয়াখালী শহরের দুই বাধঘাট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য ৫টি প্রতিষ্ঠান । এরপর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয় সোহাগের। আর সেই দুরবস্থার লাগাম টেনে ধরলো সহপাঠিদের নিয়ে গড়ে তোলা সংগঠন মানবিক ৯০ ব্যাচ। খবর পাওয়া মাত্র তাকে না জানিয়ে, সংসারের প্রয়োজনীয় সব সওদা আর খাবার সামগ্রী নিয়ে বন্ধুরা হাজির হলেন সোহাগের বাড়িতে।
কঠিন সময়ে শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে নয়। সোহাগের পুড়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নেয় বন্ধু সংগঠন। পুড়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উঠানো থেকে শুরু করে দোকান সাজানো পর্যন্ত সবটাই করেছে ওরা।
সোহাগের বড় মেয়ে সানজিদা বিনতে সোহাগ পটুয়াখালী মহিলা কলেজের ছাত্রী। ছোট মেয়ে সায়মা ইসলাম ইভা ডোনাবান স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে পড়ছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়। পরিবারের একমাত্র অবলম্বন বাবার দোকান ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় পড়ালেখার ভবিষ্যত নিয়ে ওরা হয়েছিলো উদ্বিগ্ন।
রীতিমতো দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে ফিতা কেটে সোহাগের নতুন দোকান উদ্বোধন করা হলো। কার্যক্রমে অংশ নেন বন্ধু সংগঠন মানবিক ৯০ ব্যাচের প্রায় অর্ধশত বন্ধু। বন্ধুত্বের বন্ধনকে স্মৃতিবহ করে রাখতে দোকানের নাম রাখা হলো ‘মানবিক স্টোর’।
বন্ধুর পাশে বন্ধু কীভাবে দাঁড়াতে হয় তারই অনন্য নজির স্থাপন করলেন পটুয়াখালীর এই বন্ধুরা। সহায় সম্বল হারিয়ে যখন দুচোখে অন্ধকার নেমে এসেছিলো সোহাগের। তখন বন্ধুরাই সেখানে জ্বালালেন আলোক বর্তিকা।
পটুয়াখালী এসএসসি ৯০ ব্যাচ শিখিয়ে গেলেন শুধু জন্মদিন কিংবা জানাজাতে অংশগ্রহণ নয়। বন্ধুর পাশে বন্ধুকে দাঁড়াতে হয় দুর্দিনে, দু:সময়ে।