রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং প্রদর্শনী চত্বর ঘুরে দেখেন।
‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও বিভিন্ন প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত অবহিত করাই এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।
এর আগে সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রদর্শনীতে সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোলার এক্সপোতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ সক্রিয়দের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে অবশ্যই সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনার খাত নয়, বরং এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।
তারুণ্যের কোন উদ্ভাবনী আইডিয়া যেন হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য চলতি বাজেটেই স্টার্টআপের জন্য বর্তমান সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাযথভাবে স্বাভাবিক রাখার জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে এরই মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায়, বাসা-বাড়ি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই অসম্ভব হবে না।













