গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় সমর্থন না দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যারা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত হবে না, তাদের ওপর আমদানি শুল্ক বসানো হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। যারা এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যাবে না, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি।’ তবে কোন কোন দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ হতে পারে কিংবা কোন আইনি ক্ষমতায় তা করা হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে আরও কয়েকটি দেশ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অনেকেই গ্রিনল্যান্ড দখলের ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে যায়। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিনিধি দলের নেতা ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, স্থানীয় মানুষের মতামত শোনা এবং পরিস্থিতি শান্ত করাই তাদের সফরের উদ্দেশ্য।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনে ‘সহজ পথে বা কঠিন পথে’ যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটি পেতে পারে। এই বক্তব্যকে অনেকেই দ্বীপটি কিনে নেওয়া বা শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
গ্রিনল্যান্ড জনসংখ্যায় ছোট হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এটি ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও সামুদ্রিক নজরদারির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে শতাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে।
তবে ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোট ভেঙে পড়তে পারে। ইউরোপের একাধিক দেশ ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা যৌথভাবে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছর ব্যর্থ হয়েছে মনে করেন বেশিরভাগ আমেরিকান
গ্রিনল্যান্ডের এক সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক তাকে আশাবাদী করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধু ও মিত্র প্রয়োজন।’ তবে তিনি এটাও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নতুন নয় এবং পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: বিবিসি












