ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। সেগুলো হলো—উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, বনানী কবরস্থান, খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থান, মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও রায়েরবাজার বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থান। প্রতিটিতে অগ্রিম কবর সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও স্হানপ্রাপ্যতা সাপেক্ষে এসব কবরস্থানে বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণের সীমিত ব্যবস্হা রয়েছে। উত্তরের কবরস্হানগুলো সংরক্ষণের নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক ১৫ থেকে ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করা যায়। কবরে সমাহিতকরণের জন্য বাঁশ ও চাটাই সরবরাহের লক্ষ্যে ইজারাদার নিয়োগ করা আছে। দাফনের ফি ৫০০ টাকা এবং প্রতিটি কবরস্থানে বাঁশ ও চাটাই সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। যদিও নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থাৎ ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয় একটি মরদেহ দাফনের জন্য।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কবরস্হানগুলোতে চাইলেই কবর সংরক্ষণ করা যায় না। উচ্চ মহলের কেউ হলে বা সুপারিশের ভিত্তিতে কবর সংরক্ষণ করা যায়। তবে, সেক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা মুজাহিদ আল সাফিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের কাছে প্রায় শতাধিক কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের আবেদন রয়েছে। আগে বনানীতে ১৫ বছর সংরক্ষণের জন্য ফি ছিল ২৪ লাখ, এটি করা হচ্ছে ১ কোটি আর ২৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ, যেটি ছিল সেটি করা হচ্ছে দেড় কোটি টাকা। আর পুনরায় কবর করার জন্য আগে ফি ছিল ২০ হাজার ৫০০, এখন করা হয়েছে ৫১ হাজার। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশের পরই এটি কার্যকর হবে। আমরা আসলে কবর সংরক্ষণের বিষয়ে নিরুত্সাহিত করতে এ ফি নির্ধারণের কথা ভাবছি। সবাই চায়, তাদের স্বজনদের কবর সংরক্ষণ করতে। এতে কবরের জায়গা সংকোচন হয়ে পড়ছে। তাই ফি বাড়ানো হচ্ছে।’