তরুণ সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশ একদিন স্মার্ট হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৭ই এপ্রিল) গণভবনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স’ এর তৃতীয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা আমাদের তরুণ সম্প্রদায়ের সংখ্যা বেশি। যে কারণে আমরা যদি তাদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারি- শুধু এই প্রজন্মকে না, সামনের প্রজন্মকেও আমরা যেন উপযুক্ত গড়তে পারি। তাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল থেকে স্মার্ট হবে। একই সঙ্গে আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা, শিল্প-বাণিজ্য, অর্থনীতি সব দিক থেকেই আমরা এগোতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
‘ব্রেন ড্রেন’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা বিষয় অনেকে বলেন আমাদের মেধা চলে যাচ্ছে, এটা নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তা করি না। কারণ একটা সময় যারা যায় হয়তো এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বাইরে যায়, টাকা-পয়সা কামাই করে। আবার অনেকেই বাইরে যারা পড়াশোনা করছে, অনেকেই কিন্তু দেশে ফিরে আসছে।’
বাংলাদেশ কিন্তু এখন একটা আকর্ষণীয় স্থান। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। আমাদের গদবাধা পুরোনো কথা আর বলার দরকার নেই। আমাদের তো লোকের অভাব নেই। আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষাগ্রহণ করবে এবং আসবে। বরং বাইরে থেকে বাংলাদেশের পজিশন এখন অনেক দিক থেকে ভাল।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যেমন সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়, অনেক সময় সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। সেদিক থেকে নিরাপত্তার দিকটা আমাদের আরও নতুন ভাবে চিন্তা করতে হবে। নিরাপত্তার দিকটাতেও খুব বেশি নজর দিতে হবে এখন।’
এসময় গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির উৎকর্ষতা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকবে, এজন্য গবেষণার ওপরও আমাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের গবেষণা সবসময় দরকার। গবেষণা করতে হবে। আমরাও যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি। বাংলাদেশ সবার কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, সেটাই আমি চাই।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবো কেন, আমাদের দেশের মানুষের মেধা আছে। সেটা বিকাশের সুযোগ করে দিলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।’
যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজকে তৈরি করতে হবে। ইয়াং জেনারেশনকে তৈরি করতে হবে। কারণ আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা বলছি শুধু এ কথা চিন্তা করা নয়, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের তরুণ সমাজকে আরও বেশি উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া, ট্রেনিং দেওয়া বা তাদের সেভাবে বা তাদের মন-মানসিকতাও গড়ে তোলা সেটাই আমাদের করতে হবে।’