পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটসহ নানা জটিলতায় মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। তাই রোগি নিয়ে রাত দুপুরে ছুটতে হয় রংপুর দিনাজপুর কিংবা ঢাকায়। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু হলেও সাড়ে তিন বছরেও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ের প্রায় ১৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার কেন্দ্রস্থল আধুনিক সদর হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসক সংকটসহ নানা কারণে হাসপাতালটিতে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না এ জেলার বাসিন্দারা। গুরুতর অসুস্থ হলেই রোগী নিয়ে ছুটতে হয় রংপুর দিনাজপুর কিংবা ঢাকায়। এমনকি ২৪ ঘন্টা অপারেশন থিয়েটার চালু থাকে না হাসপাতালটিতে। তাই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগিদের। চিকিৎসা খরচ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে গড়ে ১৫০-১৬০ রোগি ভর্তি হয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন।
২০১৮ সালের জুনে ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে শুরু হয় আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করণের কাজ। ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সাড়ে ৩ বছরেও শেষ হয়নি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। দেরিতে কাজ শুরু হওয়া, করোনা পরিস্থিতি আর অবকাঠামোতে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ায় সময় বেশি লাগছে বলে জানান
হাসপাতালটি আড়াইশ শয্যায় উন্নীত হলে নতুন নতুন বিভাগ যোগ হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আইসিইউ, সিসিইউ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট, আইসোলেশন সেন্টার, পিসিআর ল্যাব, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারসহ যোগ হবে অত্যাধুনিক রোগ নির্ণয়ক যন্ত্র। রোগিদের আর ছুটতে হবে না রংপুর দিনাজপুর ঢাকায়। হাতের নাগালেই মিলবে মানসম্মত চিকিৎসা। তবে চিকিৎসক সংকট কাটবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা রয়েই গেছে। আড়াইশ শয্যার হাসপাতালটি চালুর সাথে সাথেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলেই মিলবে কাঙ্খিত সুবিধা।
আড়াইশ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য গণপূর্ণ বিভাগের অধিনে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা ভীত বিশিষ্ট ৮ তলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। ৮৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুনে আড়াইশ শয্যায় চিকিৎসা সেবা চালুর কথা রয়েছে।