দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে সম্প্রতি দিনাজপুরে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫০ জনের অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ব্যক্তিরা অনেকেই হেলমেট পরিহিত ছিলেন না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। তাই মোটরসাইকেল চালকদের শতভাগ হেলমেট পরাতে দিনাজপুরের বিরামপুর থানাপুলিশ এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
থানা পুলিশের দাবি আগামী এক মাসের মধ্যে উপজেলার সকল মোটরসাইকেল চালকরা শত ভাগ হেলমেট ব্যবহার করবেন এবং ট্রাফিক আইন ভাঙবেন না।
বিরামপুর থানাপুলিশের তথ্য মতে, সম্প্রতি দিনাজপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ এর অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কেই মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনায় সংখ্যায় বেশি। এ বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই এলাকায় প্রায় ২০ জন মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এদের অধিকাংশই হেলমেট পরিহিত ছিলেন না।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্নস্থানে সড়কে বিরামপুর পুলিশ তল্লাশি চৌকি বসায়। এতে ১০৫ জন মোটরসাইকেল চালককে তল্লাশির আওয়াতায় আনা হয়। এর মধ্যে ১০ জন চালকের ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ১১ জন চালক নতুন হেলমেট ক্রয় করেন। তবে মজার বিষয় হলো সব মোটরসাইকেল চালদেরকে গোলপফুল উপহার দিয়ে ট্রাফিক আইন না ভাঙার অনুরোধ করা হয়।
সরেজমিন উপজেলার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের ঘোড়াঘাট রেলগুমটি নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক চালক মাথায় হেলমেট পরেননি। তার ওপর আবার অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটছেন। এমন চালকদের দাঁড় করিয়ে মাথায় হেলমেট থাকলে থানাপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ ফুল উপহার দিয়ে ট্রাফিক আইন না ভাঙার অনুরোধ করা হয়। যাদের মাথায় হেলমেট নেই তারা কেউও নতুন হেলমেট ক্রয় করছেন। আবার কেউ জরিমানা গুনছেন।
সেখানে কথা হয় আবুতাহের নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি জানান, থানাপুলিশের এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এতে পুলিশের কোনো স্বার্থ নেই। আমাদের মূল্যবান জীবন রক্ষার্থেই তারা কাজ করছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানাই।
জানতে চাইলে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত বলেন, শতভাগ হেলমেট আওতায় আনতে হলে শান্তি দিলেই হবে না। সচেতনার মাধ্যমে তাদের ট্রাফিক আইন মানাতে হবে। তাই এলাকাবাসীকে সচেতন করতেই এ উদ্যোগ।