ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সরকারি সংবাদ মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে যে, শনিবার ভোরে তেহরানের নিজ কার্যালয়ে আইয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মারা গেছেন এবং তাঁর মৃত্যু দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সুপ্রীম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সূত্রে জানানো হয়েছে, খামেনির মৃত্যু ঘোষণার সাথে সাথে দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মৃত্যু নিয়ে সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্যকে নিয়ে একটি তিন সদস্যের অস্থায়ী পরিষদ দেশ পরিচালনা করবে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) একটি কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং দাবি করেছে, খুব শিগগিরই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে। হামলার পর ইরান ইতোমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েল ও ইয়ুএই, কুয়েত, বাহরাইন ও দোহায় অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রদেশে স্থানীয় সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সূত্রে বলা হচ্ছে যে, হামলার ফলে অন্তত কয়েকশো সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা বহু শো দিয়ে মাপা হচ্ছে; তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে রাস্তায় মানুষ শোক ও প্রতিবাদে নামছেন। কিছু সরকারি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে খামেনির পরিবারের সদস্যরাও এতে নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিকভাবে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও তেলের পরিবহন সহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাজারগুলিও এই সংঘাতের কারণে অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসন ও ইসরায়েল এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে নিজেদের কার্যক্রমের তর্ক দিলেও বিশ্ব নেতারা উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভূপ্রকৃতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন সতর্কভাবে পরিস্থিতির পরবর্তী দিকে নজর রাখছে।










